বাংলাবাজার, কেবল একটি বাজারের নাম নয়, এটি বাঙালির জ্ঞান ও সৃজনশীলতার এক জীবন্ত ইতিহাস। ঢাকার অন্যতম এই প্রাচীন স্থানটিকে দেশের প্রকাশনা শিল্পের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গণ্য করা হয়। বইপ্রেমীদের স্বর্গ হিসেবে পরিচিত এই এলাকাটি মোগল সাম্রাজ্যেরও আগে থেকে বিদ্যমান ছিল বলে ধারণা করা হয়। অনেকের মতে, এই বাংলাবাজারই ছিল প্রাচীন ‘বাঙ্গালা’ শহরের মূল কেন্দ্রস্থল।
প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে বাংলাবাজার আজ দেশের বৃহত্তম বইয়ের মার্কেট হিসেবে তার জৌলুস অক্ষুণ্ণ রেখেছে। এই পুস্তকপাড়াটি অগণিত প্রকাশনী, অসংখ্য ছাপাখানা এবং লক্ষাধিক মানুষের কর্মচাঞ্চল্যের মাধ্যমে তার নিজস্ব ঢেউ নিয়ে সদা মুখরিত থাকে।
প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে বাংলাবাজার আজ দেশের বৃহত্তম বইয়ের মার্কেট হিসেবে তার জৌলুস অক্ষুণ্ণ রেখেছে। এই পুস্তকপাড়াটি অগণিত প্রকাশনী, অসংখ্য ছাপাখানা এবং লক্ষাধিক মানুষের কর্মচাঞ্চল্যের মাধ্যমে তার নিজস্ব ঢেউ নিয়ে সদা মুখরিত থাকে।
আদি ইতিহাস: ‘বাঙ্গালা’ নগরের কেন্দ্রস্থল
বাংলাবাজার ঢাকার এমন একটি অতি পুরাতন অংশ, যা মোগল আমলের আগের থেকেও বিদ্যমান ছিল। ঢাকা গবেষক নাজির হোসেন এবং ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুনের মতে, এই এলাকাটি প্রাচীন যুগে ব্যবসা-বাণিজ্যের মূল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। একদল পরিব্রাজক এই স্থানকে ‘বেঙ্গলা নগর’-এর কেন্দ্রস্থল হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। বাংলাবাজারের প্রাচীনতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় ১৫ শতকের এক রোমান নাগরিকের মন্তব্য থেকে। ১৫০৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, বিশ্বের সর্বোৎকৃষ্ট সিল্ক ও সুতা তৈরি হতো ‘বাঙ্গলা’ নগরে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই বাংলাবাজারকে ‘বাঙ্গলা’ শহরের কেন্দ্রস্থল হিসেবে ধরে নেওয়া হয়।
এই বাজারের নাম কীভাবে ‘বাংলাবাজার’ হলো, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্যের অভাব থাকলেও কিছু ধারণা প্রচলিত আছে। অনেকের মতে, সুলতানি আমলে যখন ‘বাঙ্গালা’ শব্দটি জনপ্রিয় হয়েছিল, তখন এই বাজারটি প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল। ঢাকা গবেষক মুনতাসীর মামুনের ধারণা অনুযায়ী, সম্ভবত শুরু থেকেই বাঙালিরা এখানে বসবাস করতেন এবং একটি বাজার গড়ে তুলেছিলেন, তাই এর নামকরণ হয় বাংলাবাজার। বাঙালিদের প্রতিষ্ঠিত সেই বাজার শত শত বছর ধরে একই নামে চলে আসছে।
পরবর্তীকালে, ঢাকা শহর যখন পশ্চিম দিকে সম্প্রসারিত হয়, তখন চকবাজার এর মধ্যমণি হয়ে ওঠে। ব্রিটিশ আমলে অবশ্য বাংলাবাজার অঞ্চলটি সমৃদ্ধশালী এলাকায় পরিণত হয়। বহু ইংরেজ কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী এর আশেপাশে বসবাস শুরু করেন এবং টাকা-পয়সা ভাঙানো বা বদলানোর ব্যবসা এই এলাকাতেই শুরু হয়।
বইয়ের সাম্রাজ্যের জন্মকথা
বাঙালির হাতে গড়া এই বাংলাবাজারের আজকের জৌলুস রাতারাতি তৈরি হয়নি, এর পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ প্রেক্ষাপট। বইয়ের সঙ্গে বাংলাবাজারের সম্পর্ক দৃঢ় করতে তিনটি ঐতিহাসিক ঘটনার প্রভাব লক্ষ্যণীয়:
- মোগল সুবেদার ইসলাম খাঁ ১৬১০ সালে ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থাপন করেন।
- ১৮৬০ সালে ঢাকায় ‘বাঙ্গালা যন্ত্র’ বা প্রথম ছাপাখানা প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৮৬৫ থেকে ১৯০০ সালের মধ্যে, কলকাতার বটতলার পুঁথির আদলে বাংলাবাজারের কাছেই চকবাজারে অসংখ্য মুসলমানি পুঁথি দেখা যায় এবং সেখানে গড়ে ওঠে ‘কেতাবপট্টি’।
গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদের মতে, ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের ঠিক পরপরই বাংলাবাজারে এক-দুটি করে বইয়ের দোকান গড়ে ওঠে। সে সময় বাবুবাজারে ছাপাখানাগুলো থাকলেও বাংলাবাজার মূলত পুস্তক বিক্রয়কেন্দ্র হিসেবে কাজ করত। ১৮৬০ সালে প্রকাশিত হরিশচন্দ্র মিত্র সম্পাদিত কবিতাকুসুমাবলি নামের পদ্যবহুল মাসিক পত্রিকার বিক্রয়কেন্দ্রও ছিল ‘বাঙ্গালাবাজার’। উনিশ শতকের শুরু থেকেই চকবাজার, পাটুয়াটুলী ও মোগলটুলীর মতো স্থানগুলোতে গড়ে ওঠা ধর্মীয় পুস্তকের অনেক দোকানও পরবর্তীকালে বাংলাবাজারে নিজেদের ঠাঁই করে নেয়।
১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ফলে এই বাজারটি বিশেষভাবে গতি লাভ করে। এই সময় লেখক-সাহিত্যিকেরা বাংলাবাজারকে আড্ডাস্থল হিসেবে বেছে নেন।
দেশভাগ ও নতুন দিগন্ত (১৯৪৭-এর পর)
১৯৪৭ সালের দেশভাগ বাংলাবাজারের বইয়ের বাজারকে প্রকৃত অর্থে নতুনভাবে বিন্যস্ত করেছিল। অবিভক্ত ভারতে প্রকাশনা শিল্প মূলত কলকাতাকেন্দ্রিক ছিল, কিন্তু দেশভাগের পর পূর্ব বাংলার প্রকাশনা জগৎ এক নতুন জীবনীশক্তি পায়। সেই সময় নওরোজ কিতাবিস্তান, স্টুডেন্ট ওয়েজ, গ্রেট ইস্ট লাইব্রেরি, আল হামারা লাইব্রেরি, মালিক লাইব্রেরি, খোশরোজ কিতাব মহল, পুঁথিপত্র—এসব সৃজনশীল প্রকাশনা সংস্থা জন্ম নেয়। এমনকি কলকাতা থেকে মল্লিক ব্রাদার্সও এখানে এসে দোকান খোলে।
চমকপ্রদ বিষয় হলো, পঞ্চাশের দশকে বাংলাবাজারের অধিকাংশ প্রকাশনীর কর্ণধার ছিলেন লেখক ও সৃজনশীল মানুষ। যেমন, নওরোজ কিতাবিস্তানের মালিক ছিলেন শিশুসাহিত্যিক মোহাম্মদ নাসির আলী, গ্রেট ইস্ট লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারী ছিলেন প্রাবন্ধিক বরকত উল্লাহ, এবং আল হামারা লাইব্রেরির মালিক ছিলেন কবি মঈনুদ্দিন। এভাবেই পঞ্চাশের উষালগ্ন থেকেই সৃজনশীলতার সঙ্গে প্রকাশনা ব্যবসার একটি মজবুত রাখিবন্ধন তৈরি হয়।
পঞ্চাশের দশকে বুড়িগঙ্গা ও সদরঘাট সংলগ্ন এই বাজার সৃজনশীল বইয়ের চেয়ে বরং পাঠ্যপুস্তককে কেন্দ্র করেই বেশি সম্প্রসারিত হয়েছিল। বিশেষত ষাটের দশকে যখন পূর্ব পাকিস্তান পাঠ্যপুস্তক বোর্ড গঠিত হয়, তখন প্রধানত পাঠ্যবইকে অবলম্বন করেই বাংলাবাজার স্বাস্থ্যবান হতে শুরু করে। ধর্মীয় পুস্তক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বই—উভয় প্রকার প্রকাশনাতেই সে সময় বাজার ছিল রমরমা। আজও সহায়ক পাঠ্যপুস্তক ও সৃজনশীল বইয়ের একটি বড় অংশের জোগান এই বাজার থেকেই আসে।
ষাট ও সত্তর দশকে খান ব্রাদার্স, আহমদ পাবলিশিং হাউস, মাওলা ব্রাদার্স, পুঁথিঘর (যা পরে মুক্তধারা নামে পরিচিত হয়) এবং বিউটি বুক হাউসের মতো সৃজনশীল প্রকাশনীগুলো দেশের সাহিত্যিকদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মুক্তধারার চিত্তরঞ্জন সাহা ছিলেন এ দেশে বইমেলার প্রথম উদ্যোক্তাদের মধ্যে অন্যতম।
সৃজনশীলতার হাওয়া ও বাজারের পরিবর্তন
পুরোনো প্রকাশকদের স্মৃতিচারণ থেকে জানা যায়, ১৯৬৫ সাল থেকে আসা-যাওয়া করা নওরোজ সাহিত্য সম্ভারের অধিকর্তা ইফতেখার রসুল জর্জের বর্ণনায় ষাট-সত্তরের দশকে বাংলাবাজারের বেশিরভাগ দোকান ছিল একতলা। ঘরগুলো ছিল টিনের কিংবা চুন ও মাটি-সুরকির গাঁথুনি দিয়ে তৈরি। প্রধান সড়কের ওপরেই দোকানপাট ছিল, ভেতরে কোনো দোকান ছিল না। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পরই প্রথম এই এলাকায় রড-সিমেন্ট ব্যবহার করে বহুতল দালান নির্মাণ শুরু হয়।
১৯৮৫ সালের পর থেকে এই বাজারে নতুন উন্মাদনার সৃষ্টি হয়, যখন একতলা ও দোতলা ভবনগুলো ধীরে ধীরে ওপরের দিকে উঠতে শুরু করে। আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে মাত্র ছয়-সাত বছরের মধ্যে বিদ্যাপ্রকাশ, আফসার ব্রাদার্স, অনুপম, আগামী, অনন্যা, অবসর, কাকলী, সময়, পল্লব, দিব্যপ্রকাশ, প্রতীক—এর মতো বেশ কয়েকটি সৃজনশীল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। এই সময়ে মুদ্রণ ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের পরিবর্তন আসে; মান্ধাতার আমলের লেটার প্রেসের জায়গা নেয় অফসেট প্রিন্টিং, লেমিনেটিং এবং মজবুত বাঁধাই। প্রচ্ছদও তার প্রাচীন খোলস ছেড়ে নতুন রূপ পায়।
এই পরিবর্তনগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন কিংবদন্তি লেখক হুমায়ূন আহমেদ। প্রায় এককভাবেই তিনি বাংলাদেশের সৃজনশীল প্রকাশনাশিল্পকে একটি মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে দেন। তাঁর পাশাপাশি ইমদাদুল হক মিলনও দুর্দান্তভাবে সংগত করেন। হুমায়ূন-মিলনের হাত ধরেই নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এক সংস্করণে সাড়ে বারো শ বা সাড়ে বাইশ শ বই বের করার দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙে যায়। এই যুগে জনপ্রিয়তার জাদুকর হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাবের ফলে বাংলাবাজারে লেখকদের আড্ডা কমতে থাকে, বরং প্রকাশকেরাই ছুটতে শুরু করেন লেখকের বাড়িতে।
নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও আনিসুল হকের মতো লেখকদের বইয়ের মাধ্যমে জনপ্রিয় লেখকের তালিকা আরও দীর্ঘ হয়। বাংলাবাজার সব সময়ই জননীর মতো লোকপ্রিয় লেখক এবং সিরিয়াস ঘরানার সাহিত্যিক—উভয় গোষ্ঠীর বইকে আশ্রয় দিয়েছে। শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, সৈয়দ শামসুল হক, রশীদ করিম, হাসান আজিজুল হক, শওকত আলী, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস থেকে শুরু করে শহীদুল জহির, শাহাদুজ্জামান ও শাহীন আখতারদের বই এখান থেকেই আলোর মুখ দেখেছে।
বর্তমান বাংলাবাজার: অর্থনীতির চালিকাশক্তি
পুরোনো ঢাকা ছাড়িয়ে বইয়ের হাটবাজার আজ নতুন ঢাকায়ও ছড়িয়ে পড়লেও বাংলাবাজারের গুরুত্ব এতটুকুও কমেনি। এটি এখনও দেশের বৃহত্তম বইয়ের মার্কেট। প্রকাশকদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এখানে বইয়ের দোকানের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার। যদিও কেউ কেউ এই সংখ্যা ১২০০ থেকে ১৩০০ বলে উল্লেখ করেছেন।
বই বিক্রি, বই ছাপানো এবং সরবরাহ করার সবচেয়ে বড় কেন্দ্র এটি। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত খুচরা ক্রেতারা এখান থেকে বই কিনলেও এখন এটি মূলত বইয়ের পাইকারি বাজার হিসেবে পরিচিত। দেশের সব প্রান্তে সহায়ক পাঠ্যপুস্তক ও সৃজনশীল বই এই বাংলাবাজার থেকেই সরবরাহ করা হয়।
অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাবাজার থেকে প্রতিদিন সৃজনশীল বইয়ের লেনদেন হয় প্রায় ছয় থেকে সাত লাখ টাকার মতো। ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত এই লেনদেনের হার তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। চৈত্রসংক্রান্তি ও পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে এই বিক্রির পরিমাণ কখনো কখনো চল্লিশ লাখ টাকা পর্যন্তও পৌঁছায়। আর পাঠ্যপুস্তক থেকে প্রতিদিন কোটি টাকারও বেশি বিক্রি হয় বলে প্রকাশকেরা জানিয়েছেন।
বাংলাবাজারে বর্তমানে জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতিভুক্ত প্রকাশক আছেন ৭৮ জন এবং পুরোনো সংগঠন বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সদস্য সংখ্যা তিন শর বেশি। সব মিলিয়ে সদস্যসংখ্যা চার শর কাছাকাছি।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞকে ঘিরে লক্ষাধিক লোক জীবিকা নির্বাহ করছেন। অক্ষরবিন্যাস, মুদ্রণ, পেস্টিং, বাঁধাই ও লেমিনেশনসহ বই উৎপাদনের প্রতিটি ধাপের কারিগর ও শ্রমিক এই বইপাড়াকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত সময় পার করেন।
বইমেলার ব্যস্ততা ও বাজারের পরিবেশ
বছরের বেশিরভাগ সময় কর্মব্যস্ত থাকলেও, অমর একুশে বইমেলার আগে বাংলাবাজারের কর্মচাঞ্চল্য অন্য মাত্রা পায়। এই সময়ে প্রেসপাড়াগুলোয় বই ছাপানোর যন্ত্রের খটখট আওয়াজ সারাক্ষণ শোনা যায়। মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ের কারিগররা ব্যস্ত থাকেন, যাতে সময়মতো পাঠকের হাতে বই তুলে দেওয়া যায়।
বইমেলার তারিখ যত এগিয়ে আসে, প্রকাশক থেকে শুরু করে মুদ্রণ, বাঁধাই ও পরিবহন শিল্পের সাথে জড়িত প্রতিটি মানুষ তত বেশি ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। কাজের চাপ এত বেশি থাকে যে, ছাপাখানাগুলো ২৪ ঘণ্টাই চালু থাকে এবং এই ব্যস্ততা সাধারণত মার্চ মাস পর্যন্ত চলতে থাকে।
বাংলাবাজারের আরেকটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এখানে কম দামে পুরোনো বই কেনার সুযোগ মেলে। এই বাজারের শুরুতেই এমন কিছু দোকান পাওয়া যায় যেখানে পাঠ্যবই এবং বিভিন্ন লেখকের গল্পের বই প্রায় অর্ধেক দামে কেনা যায়।
বাংলাবাজারের পরিবেশ সবসময় কর্মব্যস্ততায় মুখরিত থাকে। এর আশেপাশে বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র বিক্রি হয় এবং খাবার হোটেলও চোখে পড়ে। সারাদিন বই খোঁজার পর ক্লান্ত হয়ে পড়লে এসব হোটেলে বসে খাওয়া সেরে নেওয়া যায়। বাংলাবাজারের পাশেই সদরঘাটের বৃহত্তর পাইকারি কাপড়ের বাজারও রয়েছে।
বাংলাবাজারের ভেতরের রাস্তাটি ‘বাংলাবাজার সড়ক’ নামে পরিচিত। পুরাতন ঢাকার অন্যতম স্থান ইসলামপুর এবং সদরঘাট টার্মিনালে যাওয়ার রাস্তাটি বাংলাবাজার সংলগ্ন।
কীভাবে যাবেন বাংলাবাজার?
বাংলাবাজার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার অন্যতম হওয়া সত্ত্বেও এটি যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকে যথেষ্ট সহজলভ্য।
ঢাকার বাইরে থেকে বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ যেকোনো বাহনে এখানে আসা যায়।
ঢাকার বাইরে থেকে বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ যেকোনো বাহনে এখানে আসা যায়।
- লঞ্চে: সদরঘাট টার্মিনাল থেকে হেঁটে মাত্র দুই মিনিটের দূরত্বে বাংলাবাজার অবস্থিত।
- বাসে: মহাখালী থেকে আজমেরী পরিবহন ও স্কাইলাইন বাসে করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আসা যায়, এরপর হেঁটে যেতে হবে। গাবতলী থেকে ৭ নম্বর ও সাভার পরিবহন বাসও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আসে।
- ট্রেনে: কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে উবার বা রিকশা করে সরাসরি যাওয়া যেতে পারে।
- অন্যান্য: সায়েদাবাদ থেকে রিকশা বা উবার বেছে নেওয়া যেতে পারে।
কবে বন্ধ থাকেবাংলা বাজার?
বাংলাবাজার বই মার্কেট সাধারণত শনিবার বন্ধ থাকে, তবে কিছু নির্দিষ্ট দিন বা সরকারি ছুটির ওপর নির্ভর করে এর ব্যতিক্রম হতে পারে। বাংলাবাজারসহ চকবাজার, শ্যামবাজার, দয়াগঞ্জ, নবাবপুর, সদরঘাট এবং অন্যান্য আশেপাশের মার্কেটগুলোও শনিবার বন্ধ থাকে।
- বন্ধের দিন: প্রতি শনিবার।
- নোট: যদিও এটি সাধারণ নিয়ম, তবে বিশেষ কোনো কারণে বা সরকারি ছুটির দিনে এটি পরিবর্তিত হতে পারে।
এই অলিগলির চক্কর, পুরোনো ও নতুন বইয়ের সুবাস আর ছাপাখানার শব্দের মাঝে বাংলাবাজার তার বইয়ের সাম্রাজ্যের ঢেউ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, যা বাঙালি পাঠকের জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণের এক অবিচ্ছিন্ন উৎস।